বচন নকরেকের বাংলা হাইকু
| ||
(১৬১)
মাছির চুমু
রঙ্গীন করে গাল
ভ্যাপসা দিনে-
(১৬২)
নতুন ঘাসে
চঞ্চলা ঠোঁটে হাসে
চিত্রা হরিণী
(১৬৩)
জেগে উঠছে
দূরস্মৃত আবেগ
আম্র কাননে
(১৬৪)
হিম নৈঃশব্দ্যে
ভ্রমরের কূজন
রঙ মাখানো
(১৬৫)
নৃত্য ভঙ্গিমা
দু'ধারে চোখ ঘোরে
বন্য ময়ূরী
(১৬৬)
ভরা যৌবনা
পাতাটি ঝরে গেল
কালের গর্ভে..
(১৬৭)
চাঁদনী রাতে
অজস্র কষ্ট ঝরে
চুনিয়া পুলে
(১৬৮)
ডাকে দাদুরী
বসন্তে বর্ষা খেলা
মেঘ মেদুর
.(১৬৯)
প্যাঁচানো ত্যানা-
ধোঁয়া-সাদা পাহাড়ে
পাখিরা উড়ে
(১৭০)
বন্য মাধুরী
বনপোড়া হরিণী
মুগ্ধ বালিকা
(১৭১)
বরফ ভেজা
ছেঁড়া চিঠির ফাঁকে
তোমার চোখ..
(১৭২)
ভেজা অরণ্য
কুচি কুচি সোনারা
হাসছে রোদে
(১৭৩)
মেঘের ঘাম
বুকের ভেতর স্রোত
জমাট রক্ত
(১৭৪)
শুন্যে উড্ডীন
গৈরিক থ্রিডি মেঘ
পুঞ্জিত ধোঁয়া...
(১৭৫)
উজার বন
মাথা ন্যাড়া পাহাড়
বিপন্ন পশু
(১৭৬)
আগুনে মন
বারোমাসি ফোটায়
ধোঁয়াশা ফুল..
(১৭৭)
তোমার জন্য
কত শিউলি ঝ'রে
গেল, বোঝনি ...?.
(১৭৮)
পূর্ণিমা রাত
নিরব গোল নৃত্যে
জোছনা ফোঁটা
(১৭৯)
বৃষ্টি সন্ধ্যায়
টাওয়ারে শামুক
শিঙ নাড়াচ্ছে...
(১৮০)
জুমের জমি
বেহাত হয়ে গেলে
টুরিস্ট স্পট...
|
(১৮১)
চড়ুই বাসা
পাখা মেলে দেখায়
ডানার গতি
(১৮২)
হাওরে নৌকো
দেহ ঝলসে যায়
জলীয় তাপে
(১৮৩)
জলে তাকালে
নিজেকে ভাঙতে দেখি
অজস্র খণ্ডে ...
(১৮৪)
হাত নাড়ালে
হেমন্তে; ঢেউ ওঠে
ধানের শিষে...
(১৮৫)
কী যে সৌভাগ্য !
আমার যত কষ্ট
তুমিই নিলে...
.(১৮৬)
শীতের সন্ধ্যা
নদীর পিঠে চাঁদ
ঘুম। কী শান্ত!
(১৮৭)
রাত দুপুরে,
পুকুরে চাঁদ পড়ে
ধূপ ধোঁয়ায় ...
(১৮৮)
কে, ক্যান এলো ?
পিঠে বরফ বেঁধে
মুখোশ পরে...
(১৮৯)
টানা বৃষ্টিতে
সিঁড়ি বেয়ে শামুক
উঠছে ক্যান ?
(১৯০)
সন্ধ্যার পাতে
ডোরাকাটা কচ্ছপ
চিংড়ি উধাও...
(১৯১)
নিম পাতা্র
ধূলা; ধুইয়ে দেয়
তুষার বিন্দু...
(১৯২)
নিঃশ্বাসে কষ্ট
আঁধারে প্রতিধ্বনি
জমাট কফ...
(১৯৩)
সাঁকোয় চাঁদ
পা ঝুলিয়ে আমিও
দুজনি একা-
(১৯৪)
ছাদে চা খাই
চায়ের কাপে চাঁদ
মুচকি হাসে...
(১৯৫)
মাচাং ঘরে
হরিণের শুঁটকি
পাখির হাড়-
(১৯৬)
পিঁপড়ে সারি
কাঁধে মদের ছিপি
উষ্ণতা পেতে
(১৯৭)
দেয়ালে জোঁক
রক্ত নেশায় বুঁদ
পিঠে লবণ...
(১৯৮)
বৃক্ষ কোটরে
সাপ আর নেউলে
ঘুমুচ্ছে মিলে...
(১৯৯)
রাক্ষুসে রাত
জোঁকের পিঠে চাঁদ
রক্তাক্ত ঠোঁট...
(২০০)
পালক গলে
হারিয়ে গেলে তুমি
বর্ণ প্রেমিক
| |
No comments:
Post a Comment