Wednesday, August 5, 2020

অরণ্যের শিক্ষার বাতিঘর প্রতিভা সাংমা আর নেই

চলে গেলেন হা'বিমা অঞ্চলে শিক্ষার বাতিঘর খ্যাত প্রতিভা সাংমা । আজ সকালে না ফেরার দেশে তিনি অন্তিম যাত্রা করেছেন। শোকসন্তপ্ত পরিবার ও স্বজনদের প্রতি জানাই গভীর সমবেদনা। 




একনজরে প্রতিভা সাংমা 

প্রতিভা সাংমার জন্মঃ ১৯৩২ খ্রিঃ ডিসেম্বর-মৃত্যুঃ  ২০২০ খৃঃ ৬ আগস্ট। বাবা মৃত সনাতন মৃ, মা মৃত বংগবালা চাম্বুগং। চার ভাইবোনের মধ্যে প্রতিভা সাংমা ছিলেন তৃতীয়।

১৯৩৮ সালে তিনি ময়মনসিংহের বিদ্যাময়ী স্কুলে প্রথম শ্রেণিতে ভর্তি হয়েছিলেন । অশিক্ষার অন্ধকারে নিমজ্জিত ছিলো মধুপুর । একেতো ঘন বনে ঢাকা ছিলো গ্রাম। সন্ধ্যা হলে বাঘের গর্জন, শেয়ালের ডাক শোনা যেত। বন্যশুকর উঠোনে চলে আসত খাবারের খোঁজে। বনমোরগ, ময়ূর , টিয়া-শালিক কত রকমের পশুপাখিতে ভরা ছিলো। মা বংগবালা চাইলেন তাঁকে পড়ালেখা করানোর। যা ভাবা তাই কাজ। সুদূর ময়মনসিংহে গ্রাম থেকে ৫০ কিলোমিটার দূরে ভর্তি করিয়ে দিয়ে এলেন। সেখানে শিশু হোস্টেলে থেকে পড়াশোনা করেছেন প্রতিভা সাংমা। ১৯৪৯ সালে এ স্কুল থেকেই ম্যাট্রিক পাস করেন। আনন্দমোহন কলেজে ভর্তি হয়েছিলেন । উচ্চশিক্ষা গ্রহণের ইচ্ছা থাকলেও পারেন নি। ময়মনসিংহের স্কুলে পড়ার সময় ছুটি পেলে বাড়ি আসতেন। বাড়ি এসে দেখতেন, নিজ সম্প্রদায়ের মানুষেরা অশিক্ষা কু-সংস্কারে ডুবে আছে। তখন তাঁর মনে প্রশ্ন জাগত, এঁদের কি শিক্ষিত করা যায় না ? তখন থেকেই শিক্ষকতার মহান পেশাকে জীবনের ব্রত হিসেবে নেওয়ার ইচ্ছা জেগেছিলো তাঁর।

১৯৫২ সালে ময়মনসিংহ শহরের হলিফ্যামিলি হাইস্কুলে শিক্ষিকা হিসাবে যোগদানের মাধ্যমে তাঁর কর্মজীবন শুরু করেন । হালুয়াঘাট উপজেলার সেন্টমেরি মিশনারি হাইস্কুলেও শিক্ষকতা করেছেন । ১৯৭০ সালে তিনি হালুয়াঘাটের সেন্টমেরি মিশনারি হাইস্কুলের চাকরি ছেড়ে নিজ গ্রামের স্কুলে চলে আসেন। ভুটিয়া প্রাইমারি স্কুলে তিনি নামমাত্র বেতনে শিক্ষকতা করে গেছেন। পীরগাছা স্কুলেও তিনি কাজ করেছেন। এছাড়াও আশপাশের দুটি মিশন স্কুলে অতিথি শিক্ষক হিসাবে বিনা বেতনে ক্লাস নিতেন। ১৯৭২ সালে মধুপুর গার্লস হাইস্কুল প্রতিষ্ঠা হলে তিনি সেখানে যোগ দেন। এবং এখান থেকেই ৯১ সালে অবসর গ্রহণ করেন।


তিনি ছিলেন সংস্কৃতিমনা। তখন মান্দিরা মিশনারিদের প্রচারে প্রভাবে সুপ্রাচীন ধর্ম সাংসারেক ছেড়ে খ্রিস্টান হচ্ছিল। তিনি তখন বলতেন , খ্রিস্টান হলেও মান্দিরা মান্দিই থাকবে। নিজের কৃষ্টি-সংস্কৃতি আঁকড়ে ধরে থাকতে হবে। সংস্কৃতি চচার্র প্রতি তাঁর আগ্রহ দেখে ১৯৫৩ সালে পাকিস্তান সরকার আদিবাসী কোটায় গালর্স গাইডের নেত্রী হিসেবে উচ্চতর প্রশিক্ষণের জন্য পাকিস্তানের পেশোয়ারে পাঠিয়েছিলেন।


একদা অশিক্ষার অন্ধকারে ডুবে থাকা হা’বিমার মান্দিদের মাঝে শিক্ষার মশাল হাতে বিভিন্ন গ্রামে ঘুরে তিনি শিক্ষা দান করেছেন। টাকা পয়সার কথা তাঁর মাথায় আসেনি। তিনি চাইতেন শিক্ষায়দীক্ষায় পিছিয়ে থাকা সমাজে শিক্ষার প্রদীপ জ্বালাতে। মান্দি সমাজে শিক্ষার আলো ছড়ানোয় তাঁর অসামান্য অবদান স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে ।


একাত্তরে তিনি পাকিস্তানি হানাদারদের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে জলছত্র মিশনে মুক্তিযোদ্ধাদের গোপনে চিকিৎসা দিতেন।

ডেইলি স্টার ও আইপিডিসি ফিন্যান্স লিমিটেডের উদ্যোগে শিক্ষাক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের জন্য প্রতিভা সাংমাকে “Unsung Women Nation Builders 2018”   বিশেষ সন্মাননা দেওয়া হয় ।


পরের জন্য নিজের জীবনটাই উৎসর্গ করে গেছেন তিনি। অন্যের বিয়ে-থার খরচ দিয়েছেন । কিন্তু নিজেরই সংসার করা হয় নি। চিরকুমারী হয়েই মরে গেলেন শিক্ষার বাতিঘর খ্যাত প্রতিভা সাংমা।

Sunday, August 2, 2020

বচন নকরেকের দুটি কবিতা

Bachan Nokrek, Bachan Nokreker kobita, নকরেক বচন, বচন নকরেকেক কবিতা
বচন নকরেকের কবিতা
বাকলে নখের ক্ষত

সিরিশ-কাগজে ঘষে মুছে ফেলি
পুরানো ঘামের গন্ধ,
মসৃণ পালকের তুলিতে
নাভি, ঠোঁট, অধর_ যা ইচ্ছে তাই
সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হরিণী চোখ

বাকলে নখের ক্ষত
জুম ক্ষেতের ফসল খেয়ে খেয়ে যায়
কালো কালো দাঁতাল শুকর-

২/৮/২০

এক ঝাঁক মূঢ় পাতা

হঠাত করে ঝোড়ো বাতাস
উড়ে গেল মাথার উপর ছাদ;
মন মুচড়ানো ভিটেবাড়ি,
জেগে থাকে ছোটছোট স্মৃতি-
নির্জন আলের আড়ালে লুকিয়ে থাকে সাপ।

ইঁদুরের গর্তে ঢুকে দ্যাখে চাঁদ
সবুজ বনের তম্বী ব্যাঙ;
উড়ে দূরে চলে যায় উঠোনের
এক ঝাঁক মূঢ় পাতা...

২/৮/২০


Saturday, July 25, 2020

হা'বিমার মান্দিদের আসল রাজা ফাদার ইউজিন ই হোমরিক সি.এস.সি আর নেই। - REV. EUGENE E. HOMRICH, CSC


Fathaer Eugine E Homrick CSC, Fahtaer Homrick, Homrick

REV. EUGENE E. HOMRICH, CSC


হা'বিমার মান্দিদের  আসল রাজা ফাদার ইউজিন ই হোমরিক সি.এস.সি আর নেই। 
( জন্ম-৮ ডিসেম্বর ১৯২৮ খৃঃ মৃত্যু-  ২৬ জুলাই ২০২০ খৃঃ)
#
পীরগাছায় প্রথম যখন তিনি মিশন প্রতিষ্ঠা করেন প্রথম দিকে আমি তাঁর লাইব্রেরি দেখাশুনা করতাম। আদিবাসী সংক্রান্ত অনেক বই তাঁর লাইব্রেরি থেকেই পড়েছি। একসময় বেশ পড়ুয়া ছিলাম। 'আ'চিক বিবাল' তাঁর প্রেরণাতেই প্রকাশ করেছিলাম, যা এখনও চলমান আছে। বলতে গেলে আমার এক আধটু লেখালেখির পেছনে তাঁর অনুপ্রেরণা ছিল। একবার পীরগাছা মিশনের অধ্যায়নরত (কলেজ/ভার্সিটি) স্টুডেন্টদের জন্যে ছাত্র বৃত্তিমূলক সংগঠন 'মান্দি বি'সারাংখ মিকরাখাৎনা' (MBM)  গড়েছিলাম। জানতাম না কীভাবে একটি সংগটনের জন্য বাইলো লিখতে হয়। তাঁর পরামর্শে লিখেছিলাম এমবিএম-এর জন্য সংবিধান। মনে পড়ে। ্উনার কাছ থেকে অনেক শিখেছি...যা এখানে লিখে শেষ করা যাবে না। কৃতজ্ঞ হা'বিমার মান্দিরা আপনার প্রতি। যেখানেই থাকুন ভালো থাকুন। 
ফাদার ইউজিন ই হোমরিক সিএসসি

ফাদার ইউজিন ই  হোমরিক (৯১)সিএসসি ছিলেন একজন আমেরিকান যাজক। তিনি সুদীর্ঘ ৬১ বছর মিশনারি জীবন অতিবাহিত করে নিজ দেশ আমেরিকাতে চলে গেছেন। আমেরিকান ফাদার হোমরিক ছিলেন হা'বিমা অঞ্চলের মান্দিদের কাছে সবার প্রিয় একজন । তিনি বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশ নেন। সরকার তাঁকে মুক্তিযুদ্ধের সনদও দিয়েছে। তিনি পেয়েছেন মুক্তিযোদ্ধার সম্মাননা। জন্মসূত্রে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক হলিক্রশ পুরোহিত ফাদার হোমরিক পীরগাছা ধর্মপল্লী তথা হা'বিমা অঞ্চলের  মান্দিসহ সবার প্রাণপ্রিয় শিক্ষক, ধর্মগুরু ও পিতৃতুল্য অভিভাবক।মধুপুর জঙ্গলের অবহেলিত, দারিদ্র্যের কশাঘাতে জর্জরিত, শিক্ষা ও চিকিৎসাবঞ্চিত, ভাগ্যহত জনগোষ্ঠীর জন্য তার সমগ্র জীবন-যৌবন অতিবাহিত করে গেছেন তিনি। তমসাপীড়িত সমাজের বিবরে জ্বেলে গেলেন আলোর রোশনাই।

জার্মান পিতা বার্নার্ড হোমরিক ও অস্ট্রেলিয়ান মাতা ইলা ভেলির ঔরসে ১৯২৮ সালের ৮ ডিসেম্বর মানবদরদী ইউজিন ই. হোমরিকের জন্ম। তখন তার বাবা-মা থাকতেন যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান প্রভিন্সের মুসরিগন নামক স্থানে। ছয় ভাই বোনের মধ্যে চতুর্থ ইউজিন হোমরিক বহুবিদ বিষয়ে শিক্ষার্জন করে খ্রিস্ট ধর্মে ব্রত নিয়ে যাজক হন এবং বাংলাদেশে আসেন। ১৯৫৫ সালে বাংলাদেশে এসেই তিনি নটর ডেম কলেজের তৎকালীন বাংলার অধ্যাপক মিয়া মোহাম্মদ আবদুল হামিদের কাছে বাংলা ভাষার পাঠ নেন।১৯৫৬ সাল থেকে ৩ বছর ঢাকার নবাবগঞ্জের গোল্লা ধর্মপল্লীতে কাজ করে ময়মনসিংহ শহর ও হালুয়াঘাটে বদলি হন। হালুয়াঘাটের বিড়ইডাকুনিতে ৯ মাস থেকে ১৯৬০ সালে চলে আসেন টাঙ্গাইলের মধুপুর বনাঞ্চলে। শিক্ষাস্বাস্থ্যকৃষিধর্মসহ অনেক বিষয়ে সবাইকে সচেতন করতে তিনি আন্তরিকভাবে কাজ করেছেন। জলছত্র মিশনের দায়িত্ব গ্রহণ করেই তিনি উপলব্ধি করেনঅশিক্ষা ও দারিদ্র্য মান্দি আদিবাসীদের নিত্যসঙ্গী। তাদের ঘরে সারা বছর খাবার থাকে নাতারা রোগেশোকে সর্বদাই জর্জরিত ও শিক্ষার আলো থেকে  বঞ্চিত। বিশুদ্ধ পানীয় জলের সুবিধা নেই ও স্যানিটেশনের সুযোগ-সুবিধা নেই। তাই তিনি পিছিয়ে থাকা এই মান্দি জনগোষ্ঠীর উন্নয়নে বনের প্রত্যন্ত অঞ্চলে গড়ে তোলেন ৩৩টি প্রাথমিক বিদ্যালয়। জলছত্র এলাকায় প্রতিষ্ঠা করেন কর্পোস খ্রিস্টি উচ্চ বিদ্যালয় এবং পীরগাছায় প্রতিষ্ঠা করেন সেন্ট পৌলস উচ্চ বিদ্যালয়। মান্দি ছেলেদের জন্য দুটি ছাত্রাবাস ও মান্দি মেয়েদের জন্য দুটি ছাত্রীনিবাস স্থাপন করেন। আদিবাসী মান্দি সম্প্রদায়ের বিশুদ্ধ পানির অভাব দূরীকরণে তিনি কূপনলকূপ ও গভীর নলকূপ স্থাপন করেন। তাদের আধুনিক কৃষিপ্রযুক্তির সংস্পর্শে নিয়ে আসার লক্ষ্যে বিভিন্ন সময়ে কৃষিবিদদের মাধ্যমে মান্দি সম্প্রদায়ের জন্য কৃষি প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করেন। তিনি নিজেও কৃষি ও চিকিৎসাবিজ্ঞানে প্রভূত জ্ঞান অর্জন করেছেন। জলছত্র অঞ্চল আদিবাসী মান্দি সম্প্রদায়ের জন্য জীবনযাত্রা কিছুটা সহজ করে গড়ে তুলে তিনি ১৯৯২ সালে মধুপুর জঙ্গলের আরো গভীরে পীরগাছা নামক স্থানে এসে নতুন মিশন স্থাপন করেন। তখন শোলাকুড়ী ইউনিয়নের এই প্রত্যন্ত অঞ্চলে না ছিল কোনো পাকা রাস্তাঘাটনা ছিল বিদ্যুৎ সংযোগ।

যাজকীয় জীবনের ৫০ বছরে ২০১৫ সালের ৩০ অক্টোবরে অনুষ্ঠিত ওয়ানগালায় তাঁকে বিশেষ কৃতজ্ঞতায় অভিনন্দিত করেন আদিবাসী মান্দি সম্প্রদায়। ২০১৫ সালের ১৫ নভেম্বর একই অনুষ্ঠানে দেয়া হয় হীরকজয়ন্তীর অভিনন্দন। উভয় অনুষ্ঠানে হোমরিকের শেষদিন পর্যন্ত মান্দি সম্প্রদায়ের সাথে থাকার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাঁকে নিজ দেশে ফিরে যেতেই হয়। বয়স আর সাম্প্রতিক নিরাপত্তাজনিত সমস্যা তাঁকে তাঁর প্রিয় মান্দিভাইদের ছেড়ে চলে যেতে হয়।

বন বিভাগ ঘন ঘন মান্দিদের গড়াঞ্চল থেকে উচ্ছেদের পায়তারা করত। তিনি পরেশ মৃ-কে দিয়ে এলাকার মান্দিদের সংঘব্ধ করান প্রতিবাদ করান। নিজে বিভিন্ন জায়গায় চিঠি লিখেন মান্দিদের স্বত্ব দখলীয় জমিতে/বসতভিটায় বনায়ন প্রকল্পের বিরুদ্ধে।বন বিভাগের গড়াঞ্চল থেকে অনত্র উচ্ছেদ প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে তিনি মান্দি ও মান্দাই আদিবাসী সম্প্রদায়ের পাশে থেকেছেন লিগ্যাল এইড সহায়তার জন্য ব্যবস্থা করেছেন। 

তিনি মান্দি সংস্কৃতির উন্নয়নের জন্য বিশেষ অবদান রেখে গেছেন। নিজে ছিলেন বাংলা সাহিত্যের এক নিষ্ঠ পাঠক। তিনি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর থেকে শুরু করে বঙ্কিমমানিকশরত পড়েছেন । মান্দি ভাষায় মিশা পরিচালনা করাতেন। মান্দি গান চলাকালীন আদুরীদামানাগ্রা বেজে উঠত। পীরগাছায় মিশন প্রতিষ্ঠার পর তিনি প্রতিবছর মান্দি জাতির বড় উৎসব ‘ওয়ান্‌গালা’ উদযাপন করেন। তিনি বলতেন নিজের সংস্কৃতিকে ভালোবাসতে হবে। তোমাদের সংস্কৃতি খুব সুন্দর। সুভাষ জেংচাম ‘গারো আইন’ বইটি লেখার জন্য তাঁর দ্বারাই অনুপ্রাণীত হন। তাঁর হাত ধরে অসংখ্য কৃতী সন্তান গড়ে উঠেছে। যারা সমাজে প্রতিষ্ঠিত হয়ে আলোর বিকিরণ ছড়াচ্ছেন। মূলত গড়াঞ্চলের মান্দিরা ভুলবে না তাঁর অনন্য অবদানের কথা। শিক্ষাস্বাস্থ্য-র পাশাপাশি তিনি অস্তিত্ব রক্ষার আন্দোলনেও  ছায়ার মতো নিরীহ আদিবাসীদের পাশে ছিলেন। 

Monday, July 20, 2020

ইদানিং লেখা কবিতা

Bachan Nokrek
প্রচ্ছদ ছবিঃ ইন্টার্নেট



গানওলা

( ছন্দঃ অক্ষরবৃত্ত )
গান গাইতে এসে ঘুমিয়ে পড়লে কি ?
কাছেই শ্মশান ;
ধোঁয়া উঠছে এখনো

বিড়ির আগুনে পুড়ছে গ্রামের পর গ্রাম

২০/৭/২০












শাদা টিলা
( অক্ষরবৃত্ত )
ঝগড়া বাঁধিয়ে এসে ঘুমিয়ে পড়ি মাচায়
সকাল হলে জানব- কে কাকে মেরেছে

মাশরুম গজালে শাদা দেখায়
জঙ্গলের টিলা

২০/৭/২০


জঙধরা টিনের চালে
( অক্ষরবৃত্ত )
দরজা জানাল বন্ধ করে দিলেও অতীত
পাশের বালিসে এসে শোয়ে থাকে
আর বলে-
আমাকে কী ভুলে গেলে তুমি ?

শব্দ করে ঝরে
শিশিরের ফোঁটা
জঙধরা টিনের চালে

২০/৭/২০
পিছু ডাক

ঘোড়ার পিঠে আষাঢ়ে বৃষ্টি
ল্যাজ নেই ক্যান ?
ছিল ;
কেউ মুছে দিয়ে গ্যাছে
ভঙ্গুর মাটির দেয়ালে ছবিটা
এখনও র'য়ে গ্যাছে
মাছির চোখের স্মৃতি হ'য়ে

১২/৭/২০
প্রত্যাখ্যাত ফুল

গড্ডলপ্রবাহের বাইরে খোলা আকাশে বিছানা পেতে শুয়ে আছি
মাছের চোখ নিয়ে সাজাই খেলাঘর
চিমটি কাটলে...বোঝা যায় বারান্দায় বেহুশ মাতাল
উড়ে এসে পড়ে আছে মেঘ
.
চোখের আড়ালে জ্বলে__জলভরা নদী
তীরে ফেরত আসে অর্চনাকে পাঠানো
প্রত্যাখ্যাত ফুল
.
১১/৭/২০
ফাঁকা বাড়ি

একা থম্‌থমে ফাঁকা বাড়ি
ছিঁড়া জামা পরে আছে
খসে পড়ে যাচ্ছে গোবর লেপা দেয়াল
উলটে পড়ে আছে দোয়াত বাতি
কবে শেষ জ্বলেছিল
মনে পড়ছে না...

নিম গাছটা কাটা হয়ে গেছে কবেই
নারকেল গাছের পাতা বাতাসে নাচে হেলে দুলে
আরে...যাইনি তোদের ভোলে

লিচু গাছে কী ফল ধরেছে ?

আমি নেই...তাই অভিমান ?

একদিন থাকব না জানই তো !

৭.১.২০
জঙ্গুলে পথ

একটি জঙ্গুলে পথের বাঁকে এসে আলো হারিয়ে গেল
এরপর নিকষ কালো আঁধার

ছন্নছাড়া পায়ে হেঁটে বাড়ি খুঁজি
ভেজা সিগারেট ব্জ্র আলোয় জ্বালাতে চাই

ধোঁয়াহীন সিগারেট ঠোঁটে ঝুলিয়ে দরজা খুলি
কেউ নেই।

দূর থেকে ভেসে আসে সেলফোনের বিষাদু সুর
দূর পাহাড়ের গান

২৬/৬/২০
অ্যাবসার্ড ইমেজ

একটি ছবি এঁকো আমাকে নিয়ে
বিরান বনে দাঁড়িয়ে আছি
মাথার উপর শিল বৃষ্টি-ঝড়
ছাতা নেই _

ভালো না লাগলে মুছে দাও ।

ব্রাস টুলে মেখে নাও _ নীল
এবার নীল শাদা-আকাশ,
যতদূর চোখ যায় হলুদ আর হলুদ
প্রান্তরজুড়ে সরসে ফুল

অবসাদগ্রস্ত অক্ষরগুলো গলে রঙধনু হয়ে গেল

১৯/৬/২০

জলও জ্বলে

জলেও আগুণ দিই
জ্বলে যদি !

জল কী জ্বলে না ?

মনও তো পুড়ে
কেউ-ই দেখে না
.
জলও জ্বলে শুনেছি

১৮.৬.২০

নখ

ভেজা ভোরে জুঁই গন্ধ
মেসেজ পাওনি ?
টুইটারে দেখা কোরো
বুকে ব্যথা...আচ্ছা , সব বলবনি খুলে !

শুভ্র নখে চোখ রাখলে আয়না হ'য়ে যায়
আর আয়নায় ভেসে ওঠে
তোমার কিশোরী মুখ !

১৮/৬/২০
বালিশে এখনো তোমার উড়াল চুল
.
'চ'লে যাওয়ার গল্প' রেখে
ফিরে আসি ; হাঁড়িতে ভাত ফুটছে
বালিশে এখনো তোমার উড়াল চুল
ঘামের গন্ধ ছুটে আসে তিরিশ বছর পেছনে ফেলে-
যেনো এইতো সেদিন
অন্ধকারে আমরা দুজন; তোর চুলে মুখ ঢেকে

১৭/৬/২০

ইট-জঙ্গলের ঝোপঝাড়ে

পাতার ওষ্ঠে রেখে এসেছি চুম্বনের দাগ
শন পাতার ঘরে আমাদের খেলনা বাসর, চড়ুইভাতি...

কারোর কোন খবর নেই

এখনতো ইটের দালানে থাকো
নষ্ট প্যান্টের চেইনে মাটি রঙা পাখি
মনে পড়বে না

ইট-জঙ্গলের ঝোপঝাড়ে
হারিয়ে গেছি আমরা

৬.৫.২০
ছাই গন্ধ

সিগারেট জ্বালিয়ে টানতে ভুলে যাই
কী একটা যন্ত্রণা তাইনা ?
কষ্ট সেলাই করছি প্রতিদিন
তবু মানুষের মতো দীর্ঘ হ'তে পারছি না !
অবজ্ঞা অবহেলার পুরাণ , ধুলো মলিন
শার্টের কলারে লেগে থাকে
ধোঁয়া ধোঁয়া ছাই গন্ধ...

২৯.৫.২০

পাগলা শৈশব

স্বপ্নে ছোটো বেলা দেখলাম
ছনের স্কুল ঘর, খেলার মাঠ
আম গাছের ছায়ায়
খেলা শেষে আড্ডা দিচ্ছি
...
কার পুকুরে গিয়ে সাঁতার
কাটব, কে কে সাঁতার জানে কে জানে না-
ঝড়ে ঝরা আম বিচি দিয়ে ধুলো মুছে নিয়ে
আঁকা আঁকি করি পাগলা শৈশব

Saturday, May 23, 2020

আবার স্বাভাবিক হবে পৃথিবী।

Maintain social distance.

২৩.৫.২০

করোনায় বিশ্বব্যাপী মৃতের সংখ্যা ৩ লাখ ৪০ হাজার ৪ জনে ছাড়াল। বাংলাদেশে এ পর্যন্ত মরেছে ৪৩২ জন। ঈদের পর আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে যেতে পারে। শহর থেকে গ্রামে ছড়িয়ে পড়তে পারে কারণ, শহর থেকে ঈদ উদ্‌যাপনের জন্য লাখ লাখ লোক গ্রামে যাচ্ছে। তাদের মধ্যে করোনা ভাইরাস বহন করছে না এমন তো নয়। মান্দিদেরও ঈদের ছুটিতে বাড়ি যাওয়ার প্রবণতা লক্ষ্য করি। কিন্তু, ২০২০ সালের পৃথিবী আসলেই অন্যরকম। আমি মনে করি নেহায়েত প্রয়োজন না হলে না যাওয়াই উত্তম হবে। পরিবার, স্বজন তথা গ্রামবাসীদের ঝুঁকির মধ্যে ফেলা ঠিক নয়। ভালো থাকুক গ্রামবাসীরা, ভালো থাকুক দেশের মানুষ। বৈশ্বিক এই দুর্যোগে মানুষের পাশে মানুষই থাকে। আশা করি সুদিন অচিরেই আসবে। আবার স্বাভাবিক হবে পৃথিবী।

TRANSLATE-
The death toll in Corona worldwide dropped to 3 lakh 40 thousand 4 people. So far 432 people have died in Bangladesh. The number of victims may increase after Eid. It can spread from city to village because millions of people are going to the village from the city to celebrate Eid. It is not that they do not carry the corona virus. I also notice the tendency of mandis to go home during Eid holidays. But, the world of 2020 is really different. I think it would be better not to go unless absolutely necessary. It is not right to put family, relatives and villagers at risk. Good luck to the villagers, good luck to the people of the country. People are by the side of people in this global disaster. I hope good days will come soon. The world will be normal again.


Friday, May 22, 2020

মনের ভিত্রে কী খেলে ...অল্পটুকুন যাই বলে

কবি বচন নকরেক
কবি বচন নকরেক
২৩.৫.২০


বাজার থেকে ঘুরে এলাম। ফাকা।দুএকটা দোকান খুলেছে, গ্রাহক নেই।হয়ত কিছুক্ষণ পর বেড়ে যাবে মানুষের সমাগম। ভয়ঙ্কর জীবজন্তু বা অত্যাধুনীক মারণাস্ত্রকেও মানুষ এতোটা ভয় করে না, যতোটা করোনাকে!আমি খুব দরকার না হলে বাজারে যাই না। মেঘলা মেঘলা দিন, তাই ভাবলাম আজ ডিম দিয়ে খিচুরি রাঁধলে মন্দ হবে না। লেবু দিয়ে গ্রিন টি নিজেই বানিয়ে খাই। কবিতা পড়তে পড়তে , গান শুনতে শুনতে কখন শেষ হয়ে যায় এক মগ চা...খেয়াল থাকে না। অথবা মনেই থাকে না অর্ধেক পান করার পর।

আজ কার কবিতা পড়ব ! নিজের ? নাকি শক্তি চট্টোপাধ্যায় ! আমার খুব প্রিয় কবি শক্তি চট্টোপাধ্যায়।
'অবনি, বাড়ি আছ ?'

I came back from the market. Empty. A couple of shops have opened, there are no customers. Maybe after a while the number of people will increase. People are not as afraid of horrible animals or sophisticated weapons as they are of corona!I don't go to the market unless I need to. Cloudy, cloudy day, so I thought it would not be bad to cook khichuri with eggs today.I make green tea with lemon and drink  it myself. When you read a poem, listen to a song, when you finish a mug of tea ... you don't notice. Or don't remember after drinking half. Whose poem will I read today! Own? Or Shakti Chatterjee! My very favorite poet is Shakti Chatterjee.'Abani, are you home?'

Thursday, May 21, 2020

২০২০ সালের পৃথিবী















লিখছি তোমার জন্যে।
জানি পড়বে না
চারিদিকে করোনা করোনা করছে সবাই
শব মিছিল্‌ , লাশের গন্ধ
কাটা গায়ে লবণের ছিটার নাম আম্ফান
কত মানুষ মরি-মরি ক'রে __মরে না
বুকে কষ্ট, সব তো বলা যায় না
কত দুর্যোগের পৃথিবী  দ্যাখেছে মানুষ _২০২০ পৃথিবীর সাথে মিলে না
কোণঠাসা হয়ে ঘরবন্দি থাকে নি কোন দেশ, কোন শহর , কোন গ্রাম-মহল্লা
কোন উঠোন, কোন বাউণ্ডুলে জীবন! ২০২০ এর মতো
কোয়ারেন্টাইন, লকডাউন, আইসোলেশন...কত নতুন শব্দ শুনল হা-বোকা মন
প্রাকৃতিক দুঃসময়ে ঝড়ে, মহামারীতে
মনে হয়-এই ঘুম বুঝি শেষ ঘুম !
ভোরে চোখ মেলে দেখি-না তো! বেঁচে আছি
অই তো পাখিরা ডাকছে, গান গাইছে
বাউলা মন একান্তে বলে ওঠে-
'ভোরের পাখিরা সান্ত্বনা দিয়ে যায়, নিজস্ব নির্জন পৃথিবীতে স্বপন দ্যাখি'


২২.৫.২০

What's on your mind !!


শিমুলিয়া ফেরি ঘাট, মুন্সিগঞ্জ।
ঈদে ঘরমুখো মানুষ, থাকছে না সোশ্যাল ডিস্টেন্স। এতো ঝুঁকি নিয়ে ঘরে ফেরার কী প্রয়োজন ছিল।
করোনাভাইরাসের সংক্রমণের ঝুঁকি এড়াতে সরকারের পক্ষ থেকে এবার ঈদে এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় না যাওয়ার আহবান জানানো হয়েছিল। কিন্তু আবেগপ্রবণ বাঙালি তা মানছে না। একটি ঈদ স্বজন ছাড়া উদ্‌যাপন করলে ততোটা ক্ষতি হতো না। এরা তো গ্রামে গিয়ে গ্রামবাসীদেরও করোনা ঝুঁকিতে ফেলবে। বেঁচে থাকলে জীবনে কত ঈদ আসবে ! শুধু এই করোনা দুর্যোকালীন একটি বছর  অন্যরকম ঈদ করলে কি হতো না। আত্মীয়স্বজনদের টাকা পাঠানোর জন্যে -রকেট, বিকাশ, নগদ...আরো  কত রকম মোবাই সেবা আছে এখন । 
#
আম্ফান

দেশে প্রাকৃতিক দুর্যোগের বিষয় উঠে এলে সবার আগে আসে সুন্দরবনের নাম। সুন্দরবন এ বছরও ভয়ঙ্কর আম্ফানের তাণ্ডব থেকে অনেকটা বাঁচিয়ে দিয়েছে দেশকে। যদিও বিদ্যুৎ প্রকল্পের নামে সুন্দরবনের বহু গাছ কেটে ফেলা হয়েছে।দেশে যে কোন ঝড়ের প্রথম আঘাতটা লাগে সুন্দরবনে। তারপর, এখান থেকে ঝড়ের গতি দুর্বল হয়ে যায়।

দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট গভীর নিম্নচাপটিই ঘূর্ণিঝড়ে রূপান্তরিত হয়ে আম্ফান নাম ধারণ করেছে। সিডর, আইলা, মহাসেন, রোয়ানু, মোরা, নার্গিস, ফণী ও বুলবুলের মতো আম্ফানও একটি ব্যবহৃত নাম। এই আম্ফান ঝড়ের নামকরণ করেছে থাইল্যান্ড।

যেভাবে আম্ফান ঝড়ের পূর্ভাবাস দেয়া হচ্ছিল...শেষ পর্যন্ত ক্ষতি সেরকম হয় নি।
জীবননগরে ঘূর্ণিঝড় আম্ফানে বৃদ্ধা ও শিশুর মৃত্যু
আম্ফানের তাণ্ডবের একটি চিত্র। ফটোঃ ইন্টার্নেট

Wednesday, May 20, 2020

নাজিমুদ্দিনকে নিয়ে সামান্য কথা



প্রাণঘাতী করোনায় দেশ যখন লকডাউনে,  ত্রাণের চাল-ডাল-তেল চুরির হিড়িক যখন চারিদিকে , তখন শেরপুর ঝিনাইগাতি গান্ধীগাও গ্রামের ভিক্ষুক নাজিমুদ্দিন এক দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন। তিনি তাঁর ভিক্ষে করে জমানো ১০,০০০ টাকা করোনাকালীন সঙ্কটে না খেয়ে থাকা মানুষদের জন্য দান করে দিলেন।

দেশে অনেক বিত্তশালী আছেন , যারা ইচ্ছে করলে দেশের এই দুর্যোগে এগিয়ে আসতে পারে । কিন্তু, আসে না।তবে একজন নাজিমুদদ্দিন ভিক্ষুক হয়েও প্রমাণ করলেন যে , মানুষের পাশে দাঁড়াতে ধনী হতে হয় না। মনে ধনী হলে যা আছে তা নিয়েই বিপদ্গ্রস্তদের সাহায্য করা যায় ।

translate-

Nazimuddin, a beggar from Gandhigao village in Jhenaigati, Sherpur, set an example when the country was locked down in a deadly corona, and rice, pulses and oil were being stolen. He donated 10,000 TK of his begging to the people who were not eating during the Korona crisis.

There are many rich people in the country who can come forward in this disaster if they want. But, they do not come. But a Nazimuddin became a beggar and proved that you do not have to be rich to stand by the people. If you are rich in mind, you can help the endangered with what you have.

ছাদের কিনারে বসে

শহরেও পাখি ডাকে
নির্জনতা পেলে
ফাটা দেয়ালে ঘর বানিয়ে
মাথা গোঁজা চড়ুই জীবন
ঘুঘু পাখি,  ঝিঝি পোকা
ইটের অরণ্যে ছুটে আসে
পথ ভুলে!
সভ্যতার থাবায় ক্রমাগত
কোনঠাসা প্রকৃতি ও জলবায়ু
মহামারীর ছোবলে বিপর্যস্ত জনজাতি
বনে, গুহায়, পাহাড়-জল-জঙ্গল
সবখানে করোনা পৌঁছে গ্যাছে মৃত্যুর দূত হয়ে                       

Tuesday, May 19, 2020

Good Morning20.5.2020

প্রতীকী ছবি

সকালে উঠেই করোনার সর্বশেষ আপডেট পড়ি।বাংলাদেশে মোট আক্রান্ত হয়েছে ২৫,১২১ জন, সুস্থ্য হয়েছেন ৪,৯৯৩ জন, মারা গেছেন ৩৭০ জন। আর সারা বিশ্বে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা- ৪৯,৪২,৯৭৪ জন, সুস্থ্য হয়েছেন-১৯,৩৬,৫৯৩ জন, আর মারা গেছেন-৩,২১,৯৯৭ জন।

এই ভয়াল মহামারী থেকে মানুষকে বাঁচাতে বিজ্ঞানীরা প্রাণপণ প্রচেষ্টা চালিয়েই যাচ্ছেন।বিজ্ঞান আশা জাগানিয়া স্বপ্ন দেখাচ্ছেন আমাদের,  নতুন ঔষধ আবিষ্কার করে। ঔষধগুলো যদিও কাজ করছে না।আশা করছি প্রাণঘাতী করোনার ভালো ঔষধ হয়ত আমরা অচিরেই পেয়ে যাব। আপাতত, ঘরে অবস্থানই করোনা থেকে বাঁচার সবচেয়ে ভালো ঔষধ।

আরো একটি খারাপ খবর হলো-প্রবল বেগে ধেয়ে আসছে সুপার ঘুর্ণিঝড় আম্পান।আজ সন্ধ্যার দিকে এটি আঘাত হানতে পারে। কোনটা সামাল দিবে সরকার ! করোনা, আম্পান, ডেঙ্গু না দারিদ্রতা? যদিও প্রাকৃতিক দুর্যোগ এ দেশে নতুন কিছু নয়।

যাইহোক ভালো থাকুক দেশের মানুষ।



Translate:-

I woke up in the morning and read the latest update of Corona. In Bangladesh, a total of 25,121 people have been infected, 4,993 have recovered and 360 have died. Around the world, the number of people infected with corona is 49,42,984, 19,36,593 have recovered and 3,21,998 have died.

Scientists are working hard to save people from this terrible epidemic. Science is giving us hopeful dreams, inventing new medicines. The medicines are not working though. Hopefully we will get the good medicine for the deadly corona soon. For now, staying at home is the best way to get rid of corona.

Another piece of bad news is that Super Cyclone Ampan is coming at a high speed. It may hit this evening. Which will be handled by the government! Corona, Ampan, dengue or poverty? Although natural disasters are nothing new in this country.

Anyway, good luck to the people of the country.


5.20.20


মূলত আমি কবিতা লেখক।গল্পও লিখেছি দুই একটি। প্রকাশিত-অপ্রকাশিত আমার অসংখ্য  বাংলা কবিতা রয়েছে, যা এই ব্লগে দিয়ে দেব পাঠকের জন্য।
আমি মান্দি আদিবাসী। তবে লেখালেখি করি বাংলা ভাষায়। আমার নিজের মাতৃভাষা আছে যা খুবই সমৃদ্ধ। কিন্তু, ভৌগলিক অবস্থানের কারণে আমি বাংলায় লিখি। তাইবলে, নিজের মায়ের ভাষাকে ভালোবাসিনা এমন নয়। মান্দি ভাষায় আমার কিছু গান রচনা রয়েছে। আমি আমার পরিবারে মান্দি ভাষা চর্চা করি।পরিবারের সদস্যদের সাথে  বাংলা বলি না।
আমরা যাই করিনা কেন, যে যেখানেই থাকিনা কেন,  নিজের সংস্কৃতিকে, শিকড়কে যেন ভুলে না যাই। গ্রামই আমাদের অস্তিত্ব, আমাদের শিকড়। আমাদের আত্মীয়স্বজনরা গ্রামে পড়ে থাকেন। একজন মান্দি হিসেবে আমি খুব গর্বিত।

Trans-

Basically I am a poet. I also wrote stories. I have a number of published and unpublished Bengali poems, which I will share with the readers of this blog. I am a Mandi aboriginal. But I write in Bengali. I have my own mother tongue which is very rich. But, due to its geographical location, I write in Bengali. Therefore, it is not that you do not love your mother tongue. I have some songs in Mandi language. I practice Mandi language in my family. I don't speak Bengali with my family members.No matter what we do, no matter where we live, let's not forget our culture, our roots. The village is our existence, our roots. Our relatives live in the village. I am very proud as a mandi.

19.5.20

covid-19



প্রতিনিয়ত শত শত মানুষ মরছে প্রাণঘাতী করোনার প্রাদুর্ভাবে। বিজ্ঞানের চরম উন্নতির যুগেও ভাইরাসের কাছে মানুষ অসহায় আত্মসমর্পন করছে। পৃথিবীর বেশীরভাগ মানুষই দরিদ্র। কাজ হারিয়েছে কোটি কোটি মানুষ ইতিমধ্যে। ভয়াবহ এই দুর্যোগ থেকে কে মুক্তি দিবে মানুষকে বিজ্ঞান ? হ্যাঁ, বিজ্ঞানই পারবে এই দুর্যোগ থেকে মানুষকে মুক্তির পথ দেখাতে। আমরা সাধারণেরা এই প্রত্যাশায় অপেক্ষায় আছি।

Translate:-

Hundreds of people are dying every day due to the outbreak of the deadly corona. Even in the age of extreme advances in science, people are helplessly succumbing to the virus. Most people in the world are poor. Billions of people have already lost their jobs. Science will save people from this terrible disaster? Yes, only science can show people the way out of this catastrophe. We ordinary people are waiting for this.

হাইকু পার্ট -৪


বচন নকরেকের বাংলা হাইকু
(১৬১)
মাছির চুমু
রঙ্গীন করে গাল
ভ্যাপসা দিনে-
(১৬২)
নতুন ঘাসে
চঞ্চলা ঠোঁটে হাসে
চিত্রা হরিণী
(১৬৩)
জেগে উঠছে
দূরস্মৃত আবেগ
আম্র কাননে
(১৬৪)
হিম নৈঃশব্দ্যে
ভ্রমরের কূজন
রঙ মাখানো
(১৬৫)
নৃত্য ভঙ্গিমা
দু'ধারে চোখ ঘোরে
বন্য ময়ূরী
(১৬৬)
ভরা যৌবনা
পাতাটি ঝরে গেল
কালের গর্ভে..
(১৬৭)
চাঁদনী রাতে
অজস্র কষ্ট ঝরে
চুনিয়া পুলে
(১৬৮)
ডাকে দাদুরী
বসন্তে বর্ষা খেলা
মেঘ মেদুর
.(১৬৯)
প্যাঁচানো ত্যানা-
ধোঁয়া-সাদা পাহাড়ে
পাখিরা উড়ে
(১৭০)
বন্য মাধুরী
বনপোড়া হরিণী
মুগ্ধ বালিকা
(১৭১)
বরফ ভেজা
ছেঁড়া চিঠির ফাঁকে
তোমার চোখ..
(১৭২)
ভেজা অরণ্য
কুচি কুচি সোনারা
হাসছে রোদে
(১৭৩)
মেঘের ঘাম
বুকের ভেতর স্রোত
জমাট রক্ত
(১৭৪)
শুন্যে উড্ডীন
গৈরিক থ্রিডি মেঘ
পুঞ্জিত ধোঁয়া...
(১৭৫)
উজার বন
মাথা ন্যাড়া পাহাড়
বিপন্ন পশু
(১৭৬)
আগুনে মন
বারোমাসি ফোটায়
ধোঁয়াশা ফুল..
(১৭৭)
তোমার জন্য
কত শিউলি ঝ'রে
গেল, বোঝনি ...?.
(১৭৮)
পূর্ণিমা রাত
নিরব গোল নৃত্যে
জোছনা ফোঁটা
(১৭৯)
বৃষ্টি সন্ধ্যায়
টাওয়ারে শামুক
শিঙ নাড়াচ্ছে...
(১৮০)
জুমের জমি
বেহাত হয়ে গেলে
টুরিস্ট স্পট...



























(১৮১)
চড়ুই বাসা
পাখা মেলে দেখায়
ডানার গতি
(১৮২)
হাওরে নৌকো
দেহ ঝলসে যায়
জলীয় তাপে
(১৮৩)
জলে তাকালে
নিজেকে ভাঙতে দেখি
অজস্র খণ্ডে ...
(১৮৪)
হাত নাড়ালে
হেমন্তে; ঢেউ ওঠে
ধানের শিষে...
(১৮৫)
কী যে সৌভাগ্য !
আমার যত কষ্ট
তুমিই নিলে...
.(১৮৬)
শীতের সন্ধ্যা
নদীর পিঠে চাঁদ
ঘুম। কী শান্ত!
(১৮৭)
রাত দুপুরে,
পুকুরে চাঁদ পড়ে
ধূপ ধোঁয়ায় ...
(১৮৮)
কে, ক্যান এলো ?
পিঠে বরফ বেঁধে
মুখোশ পরে...
(১৮৯)
টানা বৃষ্টিতে
সিঁড়ি বেয়ে শামুক
উঠছে ক্যান ?
(১৯০)
সন্ধ্যার পাতে
ডোরাকাটা কচ্ছপ
চিংড়ি উধাও...
(১৯১)
নিম পাতা্র
ধূলা; ধুইয়ে দেয়
তুষার বিন্দু...
(১৯২)
নিঃশ্বাসে কষ্ট
আঁধারে প্রতিধ্বনি
জমাট কফ...
(১৯৩)
সাঁকোয় চাঁদ
পা ঝুলিয়ে আমিও
দুজনি একা-
(১৯৪)
ছাদে চা খাই
চায়ের কাপে চাঁদ
মুচকি হাসে...
(১৯৫)
মাচাং ঘরে
হরিণের শুঁটকি
পাখির হাড়-
(১৯৬)
পিঁপড়ে সারি
কাঁধে মদের ছিপি
উষ্ণতা পেতে
(১৯৭)
দেয়ালে জোঁক
রক্ত নেশায় বুঁদ
পিঠে লবণ...
(১৯৮)
বৃক্ষ কোটরে
সাপ আর নেউলে
ঘুমুচ্ছে মিলে...
(১৯৯)
রাক্ষুসে রাত
জোঁকের পিঠে চাঁদ
রক্তাক্ত ঠোঁট...
(২০০)
পালক গলে
হারিয়ে গেলে তুমি
বর্ণ প্রেমিক