বচন নকরেকের হাইকু কবিতা
| ||
(১)
বৃষ্টির দিনে
পড়ল তাকে মনে
ঝরল বারি
|
(২)
কোথায় যাব?
জলাবদ্ধ উঠোন
নৌকোটি নেই...
|
(৩)
একাই থাকি
স্মৃতিখানা আগলে
মেঘের খামে
|
(৪)
সব হারাল
পুরানো চিঠি, গল্প
গেল হেমন্তে
|
(৫)
সুরার পদ্য
নাচঘরে সলমা
আলোর কুঁচি
|
(৬)
সলমা জরি
রূপোর তারে বোনা
শিশির বিন্দু
|
(৭)
চায়ের কাপে আস্ত এক জোছনা তোমার মুখ |
(৮)
মৃত কুকুর শেয়ালেরা ঘুরছে মাছির পাশে |
(৯)
বাতাসে নড়ে ফ্রেমে বাঁধানো ছবি বাবার মুখ |
(১০)
ঝুলন্ত সূতো
বৃষ্টিতে ভেজা ঘুড়ি
নিঃস্ব বালক
|
(১১)
নিরব সন্ধ্যা
ভাঁটফুলে জোনাকি
ফাটলে ব্যাঙ
|
(১২)
স্বর্গটা কই
দুলুনি ওঠে বুকে
কম্পিত মই ..
|
(১৩)
ফেরেস্তা নই
এক পেয়ালা পাপে
নরক কিনি
|
(১৪)
ব্যাঙের ছাতায়
এক আষাঢ় বৃষ্টি
ভরা পুকুর
|
(১৫)
মেঘলা দিন
শীত শীত প্রহর
খুঁজি উষ্ণতা
|
(১৬)
উদ্দাম ঢেউ,
হেসে খেলেই যাই;
স্বল্পায়ু প্রাণ..
|
(১৭)
আকাশে চাঁদ,
যেন খোলা জানালা;
মন উতলা...
|
(১৮)
নদীর বাঁক,
যাবে কোথা ! দ্বিধায়;
নিঃসঙ্গ কাক...
|
(১৯)
বাঁচার ছন্দ,
ভাঙে গুয়ার ঢেউ;
নেই কি কেউ?
(২২)
গুহার দ্বার
পাথরে বাঁধা সিঁড়ি
কুয়াশা মোড়া
|
(২০)
বন্ধা মৃত্তিকা
শব্দ চাষীর হাল
শুন্য মরাই
(২৩)
গভীর রাতে
কবরে শুতে যায়
উলঙ্গ শিশু
|
(২১)
বিস্তীর্ণ জলে,
কচুরিপানা হয়ে;
আবার ফিরি…
(২৪)
চুলার ছাই
ধ্বংশ করতে পারে
জন অরণ্য
|
২৫)
প্রথম প্রেম
উড়ন্ত প্রজাপতি
পরাগ রেনু
|
(২৬)
পাহাড়ে ঝড়
ছিঁড়ে মেঘের পর্দা
ভাঙে বর্ষাতি
|
(২৭)
কাঁঠাল রোঁয়া
মিষ্টি গন্ধ ছড়ায়
পেটে আনন্দ
|
(২৮)
সাপের ফণা
আনারস পাতায়
বেহাত জমি
|
(২৯)
বাকল চিত্র
অশ্রুসজল নারী
অনবয়বে
|
(৩০)
তোমার ছায়া
গভীরে ডোবে থাকে
যায়না ছোঁয়া
|
(৩১)
উল্টানো বৃক্ষ
ধুলায় ঝুঁকে পড়ে
কাঠগোলাপ
|
(৩২)
ফাটলে সাপ
নিরাপদ আবাস
লুকানো মুখ
|
(৩৩)
কাচের গাছ
জলে মোড়ানো দেহ
কাঁদছে একা
|
(৩৪)
বৃক্ষ কর্তন
কষ ঝরার শব্দ
মৃত্যু যাতনা
|
(৩৫)
বন্ধা মৃত্তিকা
অনাবাদী খেতের
অপুষ্ট পদ্য
|
(৩৬)
চেনা মুখটা
মনে পড়ল কেন?
আকাশে বৃষ্টি
|
(৩৭)
পালকে কষ
কষ গললে বৃষ্টি
বুকে শ্রাবণ
|
(৩৮)
প্রাচীন বৃক্ষ
নিচে বাতিল কথা
উড়ছে বেগে...
|
(৩৯)
শিকড়ে ক্ষুধা
আতর গন্ধে মুগ্ধ
সুখ বিলাস
|
(৪০)
দৌড়ুচ্ছে নৌকো
মাঝি, আর কত রে-
ভাঙা নৌকো যে...
|
(৪১)
বন-পাহাড়ে
পাতা ঝরার গান
মর্মরে কান্না
|
(৪২)
নিষ্ফলা জমি
আইলের শামুক
আর ফিরেনি...
|
(৪৩)
নিষ্পত্র বৃক্ষ
পাখি নেই...নিস্তব্ধ
কান্না আসছে-
|
(৪৪)
বাঁশের বাঁশি
রাত দুপুরে বাজে
আমারি ঠোঁতে
|
(৪৫)
বগলে সেন্ট
আতর গলা ভোর
গন্ধ মাতাল
|
(৪৬)
ঐ চন্দ্রপ্রভা
জল আয়না মুখ
তোমার মতো...
|
(৪৭)
বিস্তীর্ণ বিল
জল উল্লোলে দোলে
মাটির গুহা-
|
(৪৮)
পিদিম জ্বলে
ভাবোদ্বেল সন্ধ্যায়
নিদয় তন্দ্রা...
|
(৪৯)
পুষ্পিত বন
প্রোথিত স্বপ্ন জাগে
লব্ধ পুরাণ…
(৫২)
শন্য এ বুক
আরণ্যক বেদনা
পোড়া এ মুখ...
|
(৫০)
শৈত্য প্রবাহ
পাতারা নাচে-দোলে
কী যেন ভেবে..
(৫৩)
আলসে রোদ
ছিলাম তো আমিও
বাড়িয়ে মুখ...
|
(৫১)
যেতে চাইনা
তবু যাবার তারা
দোয়ারে কড়া…
(৫৪)
ন্যাড়া পাহাড়
ব্রা পরা স্তন যেন
কুয়াশা মোড়া
|
No comments:
Post a Comment